স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হিসেবে এ ভুলগুলো প্রায়ই করছেন

Share

স্মার্টফোন ছাড়া আপনি চলতে পারবেন? ১০০ জন মানুষের মধ্যে যদি এ প্রশ্নটি করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত ধরে নিবেন ৯৯ জনই না বলবে। আমি এ ব্লগ লিখকও ৯৯ জনের মধ্যেই পড়ব। স্মার্টফোন কিন্তু বর্তমানে ভালো থেকে খারাপ কাজই বেশি করছে। স্মার্টফোনের কারণে সামাজিক, মানসিক ও শারীরিক তিনটি সমস্যা লক্ষ্য করবেন। বর্তমান বিশ্ব যেভাবে স্মার্টফোনের উপর নির্ভর হয়ে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ক্ষতি হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই।

তবে হ্যাঁ আমরা যা করতে পারি তা হলো- স্মার্টফোন ব্যবহারকে যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রন করা। আমাদের আজকের ব্লগ টাইটেল “স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হিসেবে এ ভুলগুলো প্রায়ই করছেন” শীর্ষক আলোচনা করব। আশা করি এ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখবেন।

mistake-smartphone-users

অনলাইন ফাঁদে পা না দেয়া

আমরা যেমন আমাদের বাস্তবের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াকে খালি চোখে দেখতে পাই না। ঠিক তেমনি অনলাইন জগতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাইরাস, ম্যালওয়ারগুলোকেও কিন্তু খালি চোখে দেখতে পারি না। তবে আপনাদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখতে পারি কয়েকটি ব্যাপার বুঝলেই ধারণা করতে পারেন কোনটি আপনার জন্য ক্ষতিকর। অনলাইনে অনেক পেইজ পাবেন যেখানে প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে যা কি না ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার রয়েছে। ফ্রি সেবা প্রদান করে থাকেন এমন অনেক সাইটই কিন্তু ক্ষতিকর তথ্যগুলো আপনার ব্যবহৃত স্থানে আঘাত হানতে পারে।

অযথা লোকেশান শেয়ারিং

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রায় প্রতিটি অ্যাপেই কিন্তু লোকেশনার শেয়ার করার অনুমতি চেয়ে থাকে। খুব প্রয়োজনে অনুমতি প্রদান করুন তবে যখন অ্যাপটি ব্যবহার হবে ঠিকই তখনই লোকেশান ট্রাক করার অনুমতি দিন। অযথা ২৪ ঘন্টা লোকেশান শেয়ারিং করবেন না। অ্যাপ ইন্সটল হবার পরই আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি লোকেশান কিভাবে শেয়ার করতে চান। সেই অনুযায়ী পারমিশন দিন।

ফার্মওয়্যার আপডেট না রাখা

এ কাজটি প্রচুর স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এড়িয়ে যান। যা মোটেই উচিত নয়। ফার্মওয়্যার আপডেট কিন্তু এমনিতেই দেয়া হচ্ছে না। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের নতুন ফিচার যুক্ত করা, সিকিউরিটি হালনাগাদ করা, বা ফার্মওয়্যারের সফটওয়্যারগত বাগসহ অনেক সেবাই ফার্মওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। তাই ফোনে নতুন আপডেট আসলেই তা হালনাগাদ করুন। এতে আপনার তথ্যগত নিরাপত্তা ও ফোনের নতুনত্ব স্বাদ পাবেন।

সব অ্যাপস ব্যবহার না করা

প্রচুর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ আছে যেগুলো কি না আমাদের সত্যিকার অর্থে ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই অ্যাপ ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই অ্যাপ কমেন্ট এবং রেটিং দেখে নিবেন এবং আপনিও কোন অ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষতির সম্মূখিন হলে মন্তব্যে জানিয়ে দিবেন। এতে পরিবর্তী ব্যবহারকারীরা অ্যাপ সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন মাথার কাছে না রাখা

আমরা প্রায় সবাই এ কাজটাই করি। আপনারা এ ব্লগ পোস্ট পড়ার আগে বহুবার এ বিষয়ে জেনেছেন কিন্তু বিষয়টি গুরত্ব দেন নি। সাধারণত বাজারে বর্তমান সময়ে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো থেকে প্রচুর রেডিয়েশন হয়ে থাকে। তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের ফোনগুলোতে রেডিয়েশনের পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক সিগনেল কম হলেও কিন্তু প্রচুর রেডিয়েশন ছড়িয়ে থাকে। তাই কখনো যদি ভ্রমণ করেন অবশ্যই স্মার্টফোনটি শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখুন, কেন না ওই সময় এক নেটওয়ার্ক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে স্মার্টফোন যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে থাকে। ঘুমানোর পূর্বেও একই কাজ করতে হবে।

সারা রাত স্মার্টফোন চার্জে ফেলে না রাখা

সারাদিন আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করি রাতের বেলায় ঘুমাতে যাবার সময় ফোন চার্জ দিয়ে রাখি। সকালে ঘুম ভাঙ্গে তখন আমরা ফোনকে ডিসচার্জ করি। কিন্তু এটি করা ঠিক না। যদিও বর্তমানে প্রযুক্তিগত অনেক সুবিধাই রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরে ফোন চার্জ শেষে ব্যাটারি আজ চার্জ গ্রহন করে না। তবুও বিদ্যুৎ ব্যবহার কিন্তু ঠিকই হচ্ছে। এছাড়া অযথাই ব্যবহার ছাড়া ল্যাপটপ, অন্যান্য ডিভাইস বা মোবাইল ফোনের চার্জার বিদ্যুতের সঙ্গে সংযোগ না রাখাই ভালো। এতে হার্ডওয়্যারগুলো ভালো থাকে।

PlayStore ছাড়া অ্যাপ ডাউনলোড না করা

PlayStore থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয় এ কারণে যে, এই উৎস থেকে কোন প্রকার ক্ষতিকর প্রভাব থাকলে উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয় ওই অ্যাপকে মুছে ফেলে তাই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের আগ থেকে ক্ষতির সম্মূখিন হতে হয় না। তবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের প্রচুর অ্যাপস রয়েছে যা কি না নানা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করেও ইন্সটল করা যায়। যদিও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সর্তক করে দেয়, কিন্তু সর্তকতার পরেও ব্যবহারকারী কিন্তু ইন্সটল করতে পারেন। হয়তো অল্প কিছু সংখ্যক অ্যাপ রয়েছে ভালো কিন্তু খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে কোন অ্যাপগুলো ভালো আর কোনগুলো খারাপ। আইফোনের AppStore ছাড়া অ্যাপ ইন্সটল করা যায় না বলে আইফোন ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে এ সমস্যা নিয়ে ভাবতে হয় না।

সব ধরণের ব্যাকআপ স্টোরেজ ব্যবহার না করা

অনেক অনলাইন স্টোরেজ রয়েছে যেখানে আপনার ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য অটো ব্যাকআপ রাখা যায়। অনেকটা গুগল ড্রাইভের মতো। না বুঝে এটি করা উচিত নয়। কারণ আপনার তথ্যগুলো বেহাত হয়ে যেতে পারেন। তাই সর্তক থাকুন।

অনাকাঙ্খিত সেবা বন্ধ রাখা

আইফোন বলুন আর অ্যান্ড্রয়েড বলুন অনেক সেবাই আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকে বা নির্দিষ্ট সময় পরে চালু হয়ে যায়। এই যেমন- Wifi, Bluetooth বা DND । খুব প্রয়োজন না হলে এগুলো বন্ধ রাখুন।

Read more

Local News