ব্যক্তিগতভাবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের চাহিদা খুবই অল্প। তবে গেইমিং কম্পিউটারের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। এক থেকে দেড় লাখ টাকায় গেমিং পিসিগুলো সহসায় গেইম প্রেমিরা ক্রয় করছেন। তবে অল্প বাজেটে বাসায় কম্পিউটার রাখতে চান বা অনেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা না বুঝেই কম্পিউটার কিনতে টাকা খরচ করছেন কিন্তু সেই অনুযায়ী ভালো কম্পিউটার ক্রয় করতে পারছেন না। স্বল্প বাজেটে কম্পিউটার ক্রয়ে যে ব্যাপারগুলো লক্ষ্য রাখবেন?

আপনাদের জন্য কয়েকটি সিক্রেট টিপস্
১. প্রসেসর : কম্পিউটারের কোন ডিভাইসটি সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকে। বা বলা যায়, কোন পার্টসটি এতো সহজে নষ্ট হয় না? অবশ্যই প্রসেসর। কম্পিউটার প্রসেসর যে পরিমাণ প্রেসার গ্রহন করে। সেই অনুযায়ী প্রসেসর নষ্ট হওয়ার পরিমাণ খুবই কম। তাই যাদের বাজেট কম, তারা Core i3 4th Generation এর প্রসেসর বাছাই করতে পারে। বর্তমান কম্পিউটার মার্কেটে Core i3 4th Generation প্রসেসর মূল্য ভালো কুলারসহ ২,০০০ সর্বোচ্চ। যদি প্রসেসর বাজেট আরো একটু বেশি দিতে চান তাহলে i3, i5 না বাড়িয়ে প্রসেসরের জেনারেশনের দিকে নজর দিন।
Core i3/i5/i7 2nd/3th Generation এর সাথে যে কোন ব্র্যান্ডের H61 মডেলের হতে হবে। যদি Core i3/i5/i7 4th Gen হয় তাহলে H81 মডেল, Core i3/i5/i7 6th Gen হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে H110 । এভাবে আলো অনেক সিরিজের প্রসেসর এবং মাদারবোর্ড রয়েছে। মোদ্দাকথা যে ব্যাপারটা লক্ষ্য রাখবেন- Motherboard, Processor এবং RAM এক গ্রুপের হতে হবে।
২. মাদারবোর্ড : অবশ্যই একটি ভালো মাদারবোর্ড ক্রয় করা উচিত। Intel প্রসেসরের ক্ষেত্রে মাদারবোর্ডের সিরিজ প্রসেসর সাথে মিলিয়ে নিতে হয়। যেমন- Core i3/i5/i7 2nd/3th Generation এর সাথে যে কোন ব্র্যান্ডের H61 মডেলের হতে হবে। যদি Core i3/i5/i7 4th Gen হয় তাহলে H81 মডেল, Core i3/i5/i7 6th Gen হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে H110 । মোদ্দাকথা Motherboard, Processor এবং RAM এক গ্রুপের হতে হবে। যদিও বর্তমানে মাদারবোর্ডের মূল্য অনেক বেশি। তবে যথাসম্ভব একটা ভালো প্রতিষ্ঠানের মাদারবোর্ড বাছাই করা উত্তম হবে। কেননা কম্পিউটার বড় লোড মাদারবোর্ডের উপর দিয়েই যায়।
৩. RAM : সত্যি বলতে RAM বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুব ভালো ব্র্যান্ড হতে হবে ব্যাপারটা এমন না। তবে আবার এও না যে, চায়না উল্টাপাল্টা একটা RAM লাগিয়ে দিলাম। বর্তমানে বেশ কিছু RAM রয়েছে যেগুলো নামকরা ব্র্যান্ডের তুলনায় কম জনপ্রিয়। সেই RAM ব্যবহার করা যেতে পারে। ভালো RAM বাছাই করার ফলে কম্পিউটারের সমস্যা কম দেখা দেয়।
৪. SSD/HDD : কম্পিউটারের মূল্য যদি কম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই হার্ডড্রাইভ ব্যবহার করবেন। মার্কেটে বর্তমানে ৫০০জিবি অনেক হার্ডড্রাইভ পাওয়া যায়। এগুলো কিছু একদম নতুন না। পুরোনো হার্ডড্রাইভগুলোকে বোর্ড পরিবর্তন, রিপেয়ার করে বাজারজাত করেছে কিছু কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ হার্ডড্রাইভগুলো খুব নিম্নমানের হয়ে থাকে। যেহেতু আমাদের হার্ডড্রাইভে আমার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো থাকে, তাই ভালো স্টোরেজ বাছাই করা উচিত। তবে কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখতে অবশ্যই SSD ব্যবহার করতে হবে। SSD মূল্য বেশি হওয়াতে বাজারে ছোট ছোট অনেক SSD পাওয়া যাচ্ছে। স্বল্প বাজেটের কম্পিউটারের জন্য ২৫৬জিবি SSD ব্যবহার করতে পারেন। উইন্ডোজের জন্য ১০০জিবি রেখে বাকিটা ব্যাকআপ ড্রাইভ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ২০০০-২৫০০ টাকার মধ্যে অনেক SSD রয়েছে। ওয়ারেন্টিও থাকছে ৩ বছর।
৫. কেসিং এবং পাওয়ার সাপ্লাই : স্বল্প বাজেটের কম্পিউটারের জন্য কেসিং হয়তো একটু নিম্নমানের নেয়া যায়, কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে পাওয়ার সাপ্লাই যেন ওয়ারেন্টিযুক্ত কোন পাওয়ার সাপ্লাই হয়ে থাকে। সাধারণত যে পাওয়ার সাপ্লাইগুলো ওয়ারেন্টি থাকে সেগুলো কিছুটা ভালো মানের হয়ে থাকে। ভালো মানের পাওয়ার সাপ্লাই হলে কম্পিউটার তুলনামূলকভাবে কম সমস্যা করে।
স্বল্প বাজেটের কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই HDD নয় SSD বাছাই করতে হবে। SSD ছাড়া কম্পিউটার প্রকৃত স্পিড পাওয়া যাবে না।
৬. DVD : একটি বাজার থেকে অনেকাংশে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যারাই কম্পিউটার তৈরি করছেন তারা DVD ব্যবহার করছেনই না। বর্তমানে উইন্ডোজ Pen Drive এর মাধ্যমে দেয়া যায় এবং মাদারবোর্ডের ড্রাইভার ইন্টারনেট স্পিড ভালো হওয়াতে ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করে নেয়া যায়। তাই DVD ড্রাইভের গুরুত্ব নাই বললেই চলে।
৭. মনিটর : স্বল্প বাজেটের জন্য হয়তো খুব নামকরা ব্র্যান্ডের মনিটর বাছাই করার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মার্কেটে যে ভালো ব্র্যান্ডের মনিটরগুলো রয়েছে তারা সবাই ৩ বছর সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। HP বা DELL এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ৩০০০ টাকা কমে Acer ব্র্যান্ডের মনিটর পাওয়া যায়। বিশ্বাস করুন বা আর নাই করুন উক্ত তিনটা প্রতিষ্ঠানের মনিটরের কোয়ালিটি বর্তমানে একই। ওয়ারেন্টিও কিন্তু সবগুলোর ৩ বছর। তাই যদি স্বাভাবিক বাজের থাকে, তাহলে Acer বা সমমনা ব্র্যান্ড আছে যেগুলো ক্রয় করা উচিত। মনিটর ভালো ব্যবহার করা উচিত এই কারণে যে, নিম্নমানের মনিটরগুলো চোখের খুবই ক্ষতি করে। নিম্নমানের মনিটরগুলোতে নীল রশ্নির পরিমাণ বেশি তাই চোখের ক্ষতি করে। আর নিম্ন মানের মনিটরগুলোর মূল্য ১৭ ইঞ্চি সর্বোচ্চ ৩,৫০০ (বাজার ভেদে বেশি হতে পারে) এবং ১৯ ইঞ্চি মনিটরগুলো ৪৬০০-৫৫০০ হয়ে থাকে।
৮. মাউস এবং কীবোর্ড : কীবোর্ড ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যে ক্রয় করতে পারেন তবে মাউসটা ভালো হতে কাজ করে স্বাচ্ছন্দবোদ করবেন। তাই ভালো মাউস বাছাই করতে হবে।
