AI (Artificial intelligence) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আজকাল ChatGPT নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এই ChatGPT হল AI প্রযুক্তির উৎকৃষ্ট উদাহরণ। চলুন আজ AI নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নেই। যন্ত্রও চিন্তা করতে পারবে মানুষের মত করে এই ধারণা থেকেই তৈরি করা হয়েছে AI প্রযুক্তি। তবে যদি ভেবে থাকেন এই ধারণাটা একেবারেই নতুন, তবে আপনি জেনে অবাক হবেন এটি সম্পর্কে মানুষ প্রথম ভাবেছিল ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। সম্ভবত রামন লোল কার্যকর যুক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করার ধারণাটি প্রকাশ্যে আনেন। কি ভাবছেন! জানি অবাক হচ্ছেন, তবে এটা একটা গাণিতিক ধারণা, যার বাস্তবায়ন আমরা আজ বাস্তবে দেখতে পারছি।

কোন যন্ত্র মানুষের মত করে ভাবতে পারে না, কতগুলো গাণিতিক যুক্তি বিশ্লেষণ করে এবং তার কাছে থাকা ডেটা বা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সে ফলাফল প্রদর্শন করে। মানুষ যেমন তার বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও পূর্বসূরীদের প্রয়োগ প্রাপ্ত ফলাফলের মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ঠিক তেমনি যন্ত্র তার ভান্ডারে থাকা তথ্য উপাত্ত গুলো বিশ্লেষণ করে ফলাফল দেখাতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) আমাদের জন্য আশীর্বাদ না হুমকি তা নিয়ে বলার সময় এখনো আসেনি । তবে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছিলেন মানুষের পরিবর্তে যন্ত্র একদিন পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করবে যা পরিণামে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাবে। আর বর্তমান টেক বিশেষজ্ঞ ও অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক-এর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এমনকি ৩য় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হতে পারে।
এলান টুরিং ১৯৫০ সালের দিকে প্রথম একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এই গবেষণাপত্রে তিনি যন্ত্রের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করার জন্য ‘টুরিং পরীক্ষা’ নামের একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। এটি একটি ইমিটেশন গেম বা অনুকরণমূলক খেলা । এই পরীক্ষাটি আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি তৈরি করে। (আপনারা ইমিটেশন গেম নামে একটি মুভি আছে দেখে নিতে পারেন)। এলান টুরিং-কে আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদম ও মেশিন লার্নিং-সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে বিশ্লেষণ ও ফলাফল দেখায় । একজন মানুষ যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু মেশিনের এই ধরণের কোন সমস্যা না থাকায় সে একই সময়ে হাজার হাজার কাজ দ্রুত সময়ে সম্পাদন করে ফেলে।
কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে :
| প্রতিক্রিয়াশীল মেশিন (Reactive Machines) | সীমিত মেমরি (Limited Memory) | মনের তত্ত্ব (Theory of Mind) | স্ব-সচেতনতা (Self-Awareness) |
ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকার :
| সংকীর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Narrow Artificial intelligence) | সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (General Artificial intelligence) | সুপার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Super Artificial intelligence) |
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) আমাদের জন্য আশীর্বাদ না হুমকি তা নিয়ে বলার সময় এখনো আসেনি । তবে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছিলেন মানুষের পরিবর্তে যন্ত্র একদিন পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করবে যা পরিণামে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাবে। আর বর্তমান টেক বিশেষজ্ঞ ও অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক-এর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এমনকি ৩য় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হতে পারে।
মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর ব্যবহার ঘটিয়ে মানুষরূপী রোবট তৈরি করেছে, হয়তো তারা একদিন অনুভব করবে মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মত নিওরোলজিক্যাল অনুভুতি এভাবেই শাসন করবে ভবিষ্যৎ পৃথিবী । হয়তো এভাবেই পৃথিবী হবে অমর প্রাণীদের বাসস্থান।
