বর্তমানে যত্তগুলো জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম WhatsApp । বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ এই WhatsApp । এটি ব্যবহার করতে কোন প্রকার অর্থের প্রয়োজন হয় না। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রায় প্রতিটি কাজেই এই অ্যাপের ব্যবহার এবং জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। WhatsApp দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে টেক্স ম্যাসেজ, ভয়েজ ম্যাসেজ, ভয়েজ কল এবং কনফারেন্স, ব্যবসায়ের জন্য রয়েছে ক্যাটালগ, লোকেশান শেয়ারিংসহ রয়েছে চমৎকার সব ফিচার। এই অ্যাপের দুটো সংস্করণ রয়েছেন ১. ব্যক্তিগত, যাকে শুধুমাত্র WhatsApp নামকরণ করা হয়েছে ২. WhatsApp Business, এটি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
WhatsApp’র শুরু সম্পর্কে জানা যাক!
২০০৯ সালে Yahoo.com এর কয়েকজন প্রাক্তন সফটওয়্যার ডেভেলপার WhatsApp প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর কিছুদিন পর ২০১২ সালের ব্যবহারকারী বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজারে । পরবর্তীতে WhatsApp কে পেইড অ্যাপ করা হয়। মূল্য বৃদ্ধির ফলে WhatsApp এর ব্যবহার কমতে শুরু করে। প্রথম দিকে এই অ্যাপটি শুধুমাত্র iOS এ ইন্সটল করা যেত।
জনপ্রিয় স্যোশাল মিডিয়া Facebook (Meta) ২০১৪ সালে WhatsApp এর স্বত্ব গ্রহনের পর এটিকে উন্মুক্ত অ্যাপ হিসেবে প্রকাশ করে। সময়ের সাথে সাথে Facebook এই অ্যাপের হালনাগাদ করতে থাকে এবং প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকে ব্যবহারকারী। ফলে ২০১৭ এর শেষ নাগাদ WhatsApp এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় দশ কোটি। মূলত অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন উন্মুক্ত করার পর WhatsApp এর রেভুলেশন গঠতে থাকে। অতি দ্রুত ম্যাসেজ আদান-প্রদানের জন্য WhatsApp হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ইন্সট্যান্স ম্যাসেজিং অ্যাপ। বর্তমানে সারা বিশ্বে সচল WhatsApp ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২২৪ কোটি এবং এই অ্যাপটি পৃথিবীর ১০০ এরও বেশি দেশে ব্যবহার করা হয়। চিনের ম্যাসেজিং অ্যাপ WeChat ব্যবহারকারীর দিক দিয়ে সারা বিশ্বে প্রথম। WhatsApp থাকছে এর দ্বিতীয় সারিতে।
WhatsApp এবং WhatsApp Business উভয় অ্যাপে প্রধান সেবাগুলো পাওয়া যায়। তবে WhatsApp Business এ আলাদা কিছু বিজনেস টুল ব্যবহার করা হয়েছে। যা কি না ব্যবসায়ীদের পণ্য গ্রাহকের সামনে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে। এছাড়াও রয়েছে অটো-রিপ্লাইসহ আরো অনেক সেবা।
WhatsApp সিকিউরিটি নিয়ে কোথা বলি
WhatsApp এ ব্যবহার করা হয়েছে end-to-end সিকিউরিটি। অর্থ্যাৎ আপনার ম্যাসেজ বা কল আপনি এবং আপনার ওপর প্রান্তের ব্যক্তি ছাড়া তৃতীয় কেউ দেখতে বা জানতে পারবে না।
বিশ্বের বহুল ব্যবহারিত সিকিউরিটি সিস্টেম Two Step Verification। ফলে সব সময় আপনার WhatsApp থাকবে অনেক নিরাপদ।
আরেকটি অপশন হচ্ছে Message Disapperance। সময় সেট করে দিতে পারেন আপনার মেসেজের জন্য। অর্থাৎ আপনার লেখা মেসেজগুলো কতক্ষণ ওপর প্রান্তের ব্যক্তি দেখতে পাবে। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর মেসেজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।
Block & Report এ থাকছে কিছু কমন অপশন। কেউ বিরক্ত করলে ব্লক দিতে পারেন ওই ব্যক্তিকে। নির্দিষ্ট কর কনটেন্টকে করতে পারেন রিপোর্ট।
Seen & Unseen – আপনি যে ম্যাসেজ বা ছবিটি পাঠিয়েছেন সেইটা ওপর প্রান্তের ব্যক্তি কি দেখেছেন নাকি দেখেননি!! টিক মার্ক যদি সবুজ দেখায় তাহলে বুঝতে হবে দেখেছেন আর যদি না দেখেন ওই টিক মার্কটি বাদামি রঙ হয়ে থাকবে।
WhatsApp ব্যাকআপ end-to-end সিকিউরিটি দেয়া। সুতরাং আপনার ব্যাকআপটি অন্য কেউ দেখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
তাৎক্ষনিক ম্যাসেজ (Instant Message)
WhatsApp এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এক ব্যবহারকারী থেকে অন্য ব্যবহারকারীর কাছে ম্যাসেজ আদান প্রদান। চমৎকার সব এক্সপ্রেশন ইমুজি, গিফ, গ্যালারী থেকে ছবি বা তাৎক্ষনিক ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি বা ভিডিও পাঠানোর ব্যবস্থাসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা।
ভয়েজ ম্যাসেজ (Voice Message)
অনেকগুলো ম্যাসেজ লিখতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। এতো সময়ে হয়তো অনেকের থাকেই না। এ বিড়ম্বনা থেকে বাঁচার জন্য ভয়েজ ম্যাসেজ রয়েছে। রেকর্ডার চিহ্ন চেপে ধরে পাঠাতে পারেন ম্যাসেজ।
গ্রুপ (Group)
ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনার কাজে বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। অথবা ব্যবসায়ের কাজে কাস্টমারদের কাছে তাৎক্ষনিক ম্যাসেজ এক সাথে অল্প সময়ে পৌছে দেয়ার জন্য Group খুব প্রয়োজনীয়। এতে সুবিধা হলো অনেকগুলো কাস্টমারের কাছে সেকেন্ডের মধ্যে ম্যাসেজ পাঠাতে যায়। গ্রুপের মাধ্যমে ভিডিও, অডিও কল বা কনফারেন্স করা যায়। এছাড়াও গ্রুপের অ্যাডমিন নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রনও করতে পারেন। গ্রুপ চ্যাটে ম্যাসেজ, ছবি, ভিডিও, অডিও, ডকুমেন্টসহ ইত্যাদি কাজ করা যায়।
ছবি, ভিডিও, ফোন নম্বর (কনটাক্ট), ড্রয়িং ও ডকুমেন্ট শেয়ারিং (Photo, Video, Contact, Drawing, Document)
অফিসের বস বলল আপনার কম্পোজ শেষ হবার পর MS-Word ফাইলটি পাঠাবেন অথবা পিডিএফ পাঠাবেন। এর জন্য কিন্তু আপনাকে আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ইমেইল চালু করতে হবে না। সরাসরি ফোন কিংবা WhatsApp Web বা WhatsApp ডেস্কটপ সফটওয়্যার ব্যবহার করেই পাঠিয়ে দিতে পারেন। শুধুমাত্র ডকুমেন্টই নয়, ছবি, ভিডিও, ফোন নম্বর, ড্রয়িং করেও পাঠাতে পারেন।
ব্যাকআপ (Backup)
WhatsApp এর অবস্থান এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে প্রতিনিয়ত এ অ্যাপটি আপনাকে ব্যবহার করতেই হবে। অনেকটা সময় ব্যবহার করার পর WhatsApp এর তথ্যগুলো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। পরবর্তী ব্যবহারের জন্য WhatsApp হিস্ট্রিগুলো ব্যাকআপ করে রাখলে ফোন হারিয়ে গেলে বা কম্পিউটার পরিবর্তন হলেও রিস্টোর করে পুরোনো সব ডেটা ফিরে পাওয়া যায়। আপনার দেয়া ইমেইলে ব্যাকআপ ফাইলটি সংরক্ষিত থাকবে। WhatsApp স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইল ব্যাকআপ রাখবে এবং End-to-end সিকিউরিটির জন্য আপনার ডেটা থাকবে নিরাপদ।
WhatsApp Web
WhatsApp এর দ্বিতীয় জনপ্রিয় ফিচার হচ্ছে WhatsApp Web । এটির মূল সুবিধা হচ্ছে ইন্সট্যান্স ফোনে ইন্সটল থাকা WhatsApp অ্যাপটিকে আপনার কম্পিউটারে চালু করতে পারা। আপনার ফোন থেকে কোন ধরণের মোবাইল নম্বর বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই সরাসরি অ্যাপটি চালু করা যায়। আপনার ব্রাউজার বা ডেস্কটপে কিভাবে WhatsApp চালু করবেন – এ পোস্টটি দেখুন।
টুলস্ (Tools)
WhatsApp Tools – এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে শুধুমাত্র WhatsApp Business এর জন্য। তিন ভাগে এতে রয়েছে-
Business Profile – এটি দিয়ে আপনার ব্যবসায়িক প্রোফাইল তৈরি করবেন। ফলে আপনার ব্যবসায়িক গ্রাহক আপনার জন্য অবগত হতে ও যোগাযোগ করতে পারবে।
Catalog – আপনার সবগুলো পণ্য এ ট্যাবে পোস্ট করা যাবে। পণ্যগুলো গ্রাহকের কাছে দ্রুত পৌছাতে Catalog বেশ কার্যকর।
Advertise on Facebook – ব্যবসায়ের প্রসারের জন্য বিজ্ঞাপন জরুরী। বিজ্ঞাপন বিষয়ক সুযোগ-সুবিধাগুলো এখানে পাওয়া যাবে।
Facebook & Instagram – আপনার ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম লিঙ্ক করা থাকে এ ট্যাবে।
Short Link – ব্যবসায়িক প্রোফাইল শেয়ার করার লিঙ্ক।
Greeting Message, Away Message, Quick Replies – আপনার গ্রাহক আপনার সাথে যোগাযোগ করতে স্বাভাবিক। চাইলে গ্রাহকের ম্যাসেজের স্বয়ংক্রিয় রিপ্লাই চালু করে রাখতে পারেন। আপনি না থাকলেও আপনার উত্তর সাথে সাথে পৌছেঁ যাবে গ্রাহকের কাছে।
