ইউনিকোড আসলে কি, এটি কিভাবে কাজ করে, ইউনিকোড ফন্টের ব্যবহার এবং কথাকথিত কিছু ভুল ধারণা নিয়ে আজকের এ ব্লগ।
ইউনিকোড (Unicode) কি?
ইউনিকোড হচ্ছে ইউনিভার্সাল কোড (Universal Code)। সহজ কথায় এ ফন্ট যে কোন অবস্থায় পরিবর্তন, ভাঙ্গা বা বিকৃত হয় না। আমরা যেখানেই এটিকে কপি পেস্ট করি না কেন এর কোন ধরণের পরিবর্তন হবে না। এটি হতে পারে বাংলা ভাষা, হিন্দি, জাপানি কিংবা অন্যান্য দেশের লিখিত ভাষা। এ ফন্ট সারা পৃথিবীর যে কোন কম্পিউটারে কোন সফটওয়্যার বা তৃতীয় পক্ষের কোন ফন্ট ডাউনলোড করা ছাড়াই আপনার কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ট্যাব বা অন্যান্য ডিভাইসে দেখা যাবে।
আমাদের একটি ভুল ধারণা Unicode কে আমরা Avro বলে থাকি। আসলে Avro হচ্ছে Unicode লিখার একটি মাধ্যম।
ইউনিকোড কিভাবে কাজ করে
তবে ইউনিকোড লিখতে সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে Avro এবং Bijoy দিয়ে ইউনিকোড টাইপ করতে হয়। এ দুটো সফটওয়্যার তাদের নিজস্ব কয়েকটি উপায়ে ইউনিকোড টাইপ করে থাকে। আমাদের একটি ভুল ধারণা Unicode কে আমরা Avro বলে থাকি, আসলে Avro হচ্ছে Unicode লিখার একটি মাধ্যম। Unicode-এ লিখতে Avro সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। Avro ব্যতিক্রম যে কাজটি করেছে তা হচ্ছে Avro Phonetic (English to Bangla)। আপনি Avro চালু করে যে কোন ধরণের বাংলা শব্দ ইংরেজিতে লিখবেন সেটা বাংলা হয়ে যাবে। বাংলা হয়ে যাওয়া ওই অক্ষর বা বাক্যটি মূলত Unicode হয়ে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে দেখা যায়। Avro তাদের প্রথম ভার্সনে Bijoy কীবোর্ড ব্যবহার করে। Bijoy’র আপত্তির মুখে পরবর্তী সংস্করণে বিজয় কীবোর্ড তুলে দেয়। Avro তে আরো কয়েকটি টাইপ করার মাধ্যমে (লেআউট) রয়েছে- Avro Easy, Bornona, National (Jatiyo),
ইউনিকোড (Unicode) ব্যবহার
অন্যদিকে, বিজয় দিয়ে আমরা সাধারণত SutonnyMJ’র মতো ফন্টগুলো সিলেক্ট করে বাংলা টাইপ করতাম। সে ক্ষেত্রে CTRL + ATL + B ব্যবহার করা হতো বাংলা লিখার জন্য। বাংলা লিখার এ মাধ্যমে বলা হয় ANSI (এস-এস-আই)। বিজয় কীবোর্ড সফটওয়্যারও তাদের ANSI’র সাথে সাথে Unicode অ্যাড করে। তারা CTRL + ATL + V চেপে বিজয় পুরোনো কীবোর্ড টাইপ (লেআউট ) ব্যবহার করে Unicode সিস্টেম চালু করে।
ব্যাপারটা কিন্তু ঘুরে ফিরে একই হলো। Avro এবং Bijoy তাদের নিজস্ব মাধ্যম ব্যবহার করে অক্ষর বা বাক্যকে Unicode-এ প্রকাশ করে।
ইউনিকোড (Unicode) ফন্ট
SutonnyMJ, KongshoMJ, BongshaiMJ সহ আলো শতাধিক ফন্ট আছে, যা দিয়ে বিজয় ফন্টগুলো স্টাইলিশ করা হয়, ঠিক তেমনি Unicode ফন্টকেও অনেক Unicode ফন্ট দিয়ে স্টাইলিশ করা যায়। Nikosh বহুল প্রচলিত ফন্ট যা কি না বাংলাদেশে সরকারিভাবে ব্যবহার করা হয়। সরকারি অনেক অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট এ ফন্টটি ব্যবহার করে থাকে। Unicode কিন্তু শুধুমাত্র অক্ষরই না। ফেসবুকসহ অন্যান্য চ্যাটিং প্লাটফর্মে আমরা যে ইমুজিগুলো দেখি ওইগুলোও কিন্তু Unicode হওয়াতে আপনাদের কম্পিউটার বা মোবাইলে দেখতে পাচ্ছেন।
ইউনিকোড ফন্ট ডাউনলোড লিঙ্ক : https://www.omicronlab.com/bangla-fonts.html
কিভাবে ইউনিকোড (Unicode) ফন্ট কম্পিউটারে ইন্সটল করবেন
প্রথম পদক্ষেপ : ইউনিকোড (Unicode) ফন্ট ttf ফরম্যাটে থাকে। জীপ করা থাকলে আনজীপ করুন এরপর ttf ফন্টটি সিলেক্ট করে Copy করুন।
দ্বিতীয় পদক্ষেপ : My Computer/ Computer/ This PC হতে উইন্ডোজ ড্রাইভের প্রবেশ করুন, বেশিরভাগ উইন্ডোজ ড্রাইভ C: হয়ে থাকে। C: ড্রাইভ থেকে Windows হয়ে Fonts ফোল্ডারে প্রবেশ করুন এবং আপনার Copy করা ফন্টটি Paste করুন। লোকেশানটা এমন হবে – C:\Windows\Fonts
ইউনিকোড (Unicode) জীবন বৃত্তান্ত
ইউনিকোড প্রথম তৈরি হয় ১৯৮৮ সালে এবং এটি বাজারে আসে ১৯৯১ সালে। সারা পৃথিবীর মানুষকে সহজে এ সেবা প্রদানের জন্য Open Source হিসেবে এটি প্রকাশ করা হয়। Unicode Consortium নামক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান হতে প্রতিনিয়ত এ ইউনিকোড ফন্টের আপডেট বের হচ্ছে। ইউনিকোডের প্রতিটি অক্ষর ১৬বিট হওয়াতে ফাইল সাইজ বড় হয়।
ইউনিকোডের ওয়েবসাইট https://home.unicode.org/ থেকে আরো বিস্তারিত জানতে পারেন।
