বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বে, আমাদের সন্তানদের অনলাইনে নিরাপদ রাখা এই চলতি বিশ্বে অভিভাবকের জন্য সব চাইতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির বিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের সন্তানরা কোথায় কিসের সংস্পর্শে আসবে সেই বিষয়গুলো এবং প্রযুক্তিগত প্রভাব নিয়ন্ত্রন সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরী। প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাগুলোর ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখার বিষয়ক জ্ঞান ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম প্রযুক্তিতে শিশুদের বিচরণে ক্ষতিকর প্রভাব (পর্ব-১)। তারই ধারাবাহিকতায় পর্ব-২ নিয়ে আজকে আমাদের ব্লগ পোস্ট সন্তানদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত প্রভাব নিয়ন্ত্রন (পর্ব-২)।
প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্বে আমাদের সন্তানরা জন্মের কিছুদিন পর থেকে জড়িয়ে পড়ছে। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবিধার পাশাপাশি মারাত্মক কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যা একজন অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেহেতু আমাদের চ্যালেঞ্জটি প্রযুক্তির সাথে তাই এই দীর্ঘ সময় টিকে থাকলে আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতে হবে। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে কি না, সাইবার হামলার স্বীকার হচ্ছে কি না, নিরাপদে ইউটিউব ব্যবহার করছে কি না বা ঘরের বাহিরে সে কোথায় যাচ্ছে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সন্তানদের অবাদ যাতায়াত সুখকর হচ্ছে কি না- এ বিষয়কগুলো সম্পর্কে প্রযুক্তির সাথে প্রযুক্তিগত ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

বিষয়টি যেহেতু প্রযুক্তি তাই কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রনটি মাথা ব্যাথার কারণ দাঁড়াবে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি এতো বেশি দ্রুত বিপ্লব ঘটছে যে, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে নিত্য-নতুন তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকাও বেশ দুরহ।
আজ আমরা আলোচনা করব Kaspersky Safe Kids নিয়ে। এই ডেস্কটপ এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি কিভাবে আমাদের সহায়তা করবে সে সম্পর্কে জানব।
Kaspersky Safe Kids হল অনেকগুলো সিকিউরিটি মডিউলের মাধ্যমে তৈরি একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ। এটি তৈরি করা হয়েছে বাচ্ছাদের কথা চিন্তা করে। অভিভাবকগণ তাদের বাচ্চাদের প্রতি মুহুর্ত মনিটরিং করা সম্ভব হয় না তাই এই অ্যাপের মাধ্যমে অনেক খুটিনাটি বিষয় আছে যা কি না এ অ্যাপ্লিকেশনটি নিজেই নিয়ন্ত্রন করবে। দেখে নেয়া যাক এ অ্যাপের মাধ্যমে কিভাবে আপনি আপনার বাচ্চার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রন করবেন। নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা করতে পারেন।

আপনার সন্তান যে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করবে সেই স্মার্টফোনের ভেতর এই Kaspersky Safe Kids ইন্সটল করার পর নিচের অপশনগুলো পাবেন।
Kaspersky Safe Kids এ যা রয়েছে
App Blocking (অ্যাপ ব্লকিং)
কোন অ্যাপগুলো আপনার স্নাতন ব্যবহার করতে পারবে এবং কোনগুলো পারবে না সেটা এ অপশনের মাধ্যমে বাছাই করে দিতে পারেন। এতে সুবিধা হলো আপনার সন্তান নির্দিষ্ট কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে এবং যেগুলো ক্ষতিকর মনে করছেন সেগুলো ব্লক হয়ে থাকবে। একমাত্র অ্যাপ নিয়ন্ত্রনকারী অ্যাপগুলো সচল করতে পারবে।
Screen Timing Management (স্ক্রিন টাইম ম্যানেজমেন্ট)
স্মার্টফোনটি আপনার সন্তান কতক্ষণ সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবে। সেটিও আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। আপনি চাইছেন আপনার সন্তান বিকেল ৫টা হতে ৭টা পর্যন্ত স্মার্টফোনটি ব্যবহার করবে। আপনি সেই সময় নির্দিষ্ট করে দেয়ার সময় পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে।
GPS Location Tracking (লোকেশান ট্র্যাকিং)
ঘরে বাহিরের সন্তানের যাতায়াত নিশ্চিত করতে GPS Location Tracking (লোকেশান ট্র্যাকিং)। ম্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকা নির্দেশ করা যায় যে, আপনার সন্তান স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাহিরে যাচ্ছে কি না!! সেটাও এই অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা যায়। মোদ্দাকথা সন্তানের অবস্থানের উপর নজর রাখা।
Social Media Monitoring (সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং)
সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে। আমাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ প্রধান মাধ্যম বলা যায় এই সোশ্যাল মিডিয়া অর্থ্যাৎ সামাজিক যোগাযোগ সাইট। সুবিধার পাশাপাশি এর বেশ কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। Kaspersky Safe Kids এর মাধ্যমে আপনার সন্তানকে সেটিও আপনি মনিটরিং করতে পারবেন। আপনার সন্তান কোন ছবি, ভিডিও বা ম্যাসেজ গ্রহন করবে সেটা ফিল্টার করে দেয়া যায়।
Safe Searching (নিরাপদ অনুসন্ধান)
অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স রয়েছে। আমাদের সন্তানেরা অনলাইনের মাধ্যমে নিত্য নতুন তথ্য সম্পর্কে জানছে। সেটাও তারা অনলাইনে খোঁজাখুজি করে বের করছে। অনাকাঙ্খিত শব্দের মুখোমুখি যেন হতে না হয় বা অনলাইন অনুসন্ধান যেন নিরাপদ হয় সেই বিষয়গুলো অভিভাবক হিসেবে নিয়ন্ত্রন এবং পর্যালোচনা করতে পারবেন এই অ্যাপের মাধ্যমে।
YouTube Monitoring (ইউটিউব মনিটরিং)
Kaspersky Safe Kids অভিভাবকদের YouTube এর উপর তাদের সন্তানদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রন করতে এবং অনুপযুক্ত তথ্য বা ভিডিওতে যাতায়াত সীমাবদ্ধ করতে দেয়। আমাদের সন্তানেরা কি নিয়ে অনুসন্ধান করছে, অনুসন্ধানের ইতিহাস দেখতে পাবেন এবং সে কোনটি ব্যবহার করতে পারবে বা পারবে না সেটা বলে দিতে পারেন।
