ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে end-to-end গোপনীয় ম্যাসেজ

Share

২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ব্যবহারকারী ৪,৬৫,১৯,৯০০ জন। ব্যাপারটা বেশ অবাক করা। এর মধ্যে পুরুষের পরিমাণ ৬৮.২ শতাংশ অন্যদিকে মহিলার পরিমাণ ২৬.৬ শতাংশ। আরো একটা তথ্য রয়েছে এ ব্লগে- ১৮-২৪ বছর বয়সের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২,০২,০০,০০০ জন। পরিসংখ্যানটি বলে দেয় বড় একটি সংখ্যা ফেসবুক ব্যবহার করে এবং এর ভেতর তরুণ বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। মোট ব্যবহারকারী হিসেব করলে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

আইটি নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা দিন কে দিন বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের অবস্থান জানান দিয়ে থাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সাহায্যে। কয়েক বছর আগেও মোবাইল রিচার্জ করে যেখানে আমরা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ রাখতাম, সেইখানে WhatsApp এবং Facebook Messenger গুলোতে সহজ ব্যবহার হাতে কাছে এলেও আমাদের উচ্চারণগত যোগাযোগ অনেকাংশে কমে গেছে। অবশ্য এর বিপরীতে একটা কারণ দেখানো যায়, আমরা যাদের সাথে সাপ্তাহিক যোগাযোগ রাখতাম, তাদেরও যোগাযোগ মাধ্যমেগুলো আসা-যাওয়া স্বাভাবিক অন্য পাঁচ-দশজনের মতো করে। হাতে স্মার্টফোন থাকায় স্ক্রল করলেই সহজেই তাদের দেখা মেলে।

আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি, কিভাবে আপনার তথ্য দুজনের মধ্যকার অংশে কেউ আড়িপাততে পারবে না। সেটা হচ্ছে- যখনি আপনার চ্যাটরুমের বন্ধুকে লিখবেন hello । এই hello শব্দ থেকে অবান্তর কোডে কনভার্ট হবে। যেমন ধরুন- hello হয়ে যাবে h&%ghk125 । এই কোড আপনার ম্যাসেঞ্জার থেকে বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে প্রবেশ করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এভাবেই যাবে কিন্তু যখনই বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে প্রবেশ করবে সেটা আগের রূপ h&%ghk125 থেকে hello হয়ে যাবে। এভাবে আপনার তথ্যগুলো encrypt হয়ে আপনার নিরাপত্তা বজায় রাখবে। ভাবুন এটা যদি কোন ব্যাংকিং কোড হয়ে থাকে, সেটা কেমন নিরাপদ হবে।

তবে সর্বোপরী আমাদের যে ব্যাপারটা ভাবায় তা হচ্ছে নিরাপত্তা বা কম্পিউটারের ভাষায় Cyber Security । আমাদের তথ্য বেহাত হচ্ছে না তো? টেকনোলজিতে নিরাপত্তা ব্যাপারটা বস্তুগত নয়। টেকনোলজিকে যেমন আমরা গ্রহন ও অনুভব করতে পারি কিন্তু ছুঁতে পারি না। তেমনি নিরাপত্তাটিও একই রকম। আমাদের নিরাপত্তা শারীরিক না হয়ে, হচ্ছে আপেক্ষিক। এই আপেক্ষিক নিরাপত্তাটি অসঙ্গত হলে পড়লেই আমরাও শারীরিকভাবে ব্যহত হই।

আমাদের শারীরিক তথ্যগুলো আপেক্ষিক ভাষায় অর্থ্যাৎ আমাদের ব্যক্তিগত ম্যাসেজ, ছবি-ভিডিও প্রতিনিয়তই আমরা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে আদান প্রদান করছি। কিন্তু তথ্যগুলো অপর প্রান্তে বা ডিভাইস থেকে ডিভাইস পৌঁছানোর মধ্যে কতটুকু নিরাপদ?

Facebook ২০২২ সালের শেষের দিকে Messenger এ end-to-end সিকিউরিটি চালু করেছে। কিন্তু এই end-to-end সিকিউরিটি সরাসরি চ্যাটে যুক্ত হয়নি। ব্যবহারকারী যাকে ম্যাসেজ করবে তার অপশনে গিয়ে Go to secret conversation বাছাই করতে হবে। এরপর নতুন একটি আলাদা চ্যাট রুম তৈরি হবে। তবে এর ফলে ওই ফেসবুক বন্ধুর ২টা চ্যাটরুম চালু হবে। একটা সাধারণত অন্যটা হবে Secret conversation অর্থ্যাৎ end-to-end । এই রুমে চ্যাট, ছবি বা ভিডিওগুলো তৃতীয় কেউ দেখতে পাবে না।

কিভাবে Secret conversation চালু করবেন-

Facebook Messenger থেকে যার সাথে end-to-end conversation করবেন তাদের ম্যাসেঞ্জার প্রোফাইল চালু করুন। স্ক্রিনশট-১ এর মতো দেখতে পাবেন।

end 1
স্ক্রিনশট-১

লাল রঙ চিহ্নিত Go to secret conversation বাছাই করুন। স্ক্রিনশট-২ এর মতো দেখতে পাবেন। দেখতে পাচ্ছেন পূর্বে কোন তথ্য দেখাচ্ছে না। end-to-end conversation এর ক্ষেত্রে নতুন করে প্রোফাইল তৈরি হয়। এখন যদি চ্যাট লিস্টে ফিরে যান তাহলে এভাবে দেখতে পাবেন।

end 2
স্ক্রিনশট-২

দেখতে পাচ্ছেন ফেসবুক এক ব্যক্তির দুইটা চ্যাট রুম দেখাচ্ছে। এখানে একটা সাধারণ এবং অন্যটি end-to-end conversation ।

আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি, কিভাবে আপনার তথ্য দুজনের মধ্যকার অংশে কেউ আড়িপাততে পারবে না। সেটা হচ্ছে- যখনি আপনার চ্যাটরুমের বন্ধুকে লিখবেন hello । এই hello শব্দ থেকে অবান্তর কোডে কনভার্ট হবে। যেমন ধরুন- hello হয়ে যাবে h&%ghk125 । এই কোড আপনার ম্যাসেঞ্জার থেকে বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে প্রবেশ করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এভাবেই যাবে কিন্তু যখনই বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে প্রবেশ করবে সেটা আগের রূপ h&%ghk125 থেকে hello হয়ে যাবে। এভাবে আপনার তথ্যগুলো encrypted হয়ে আপনার নিরাপত্তা বজায় রাখবে। ভাবুন এটা যদি কোন ব্যাংকিং কোড হয়ে থাকে, সেটা কেমন নিরাপদ হবে।

Solaiman Hossain
Solaiman Hossain
Founder & author techno29.com

Read more

Local News