ধরুন আপনি জমি ক্রয় করতে চাইছেন। জমি ক্রয়ের পূর্বে ওই জমির কাগজপত্র সঠিক কি না তা নিশ্চিত হওয়া আপনার জন্য খুব জরুরী। জমি ক্রয়-বিক্রয় করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়টি জানা প্রয়োজন তা হলো জমির খতিয়ান । কেন না জমি ক্রয় করার পর আপনি নিশ্চয়ই হয়রানির স্বীকার হতে চাইবেন না। তাহলে চলুন আগে খতিয়ান কি সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। ‘খতিয়ান’ যার আভিধানিক অর্থ হলো হিসাব। মূলত জমির মালিকানাস্বত্ব রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি দেশের সরকারি জরিপ বিভাগ কর্তৃক দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলার ও মৌজার জমির এক বা একাধিক মালিকের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর, ভূমির পরিমান, হিস্যা (অংশ), খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ যে ভূমি-স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বা Record of Rights বলে। মোদ্দা কথা হল, ভূমি জরিপ হওয়ার পর জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য ভূমি মালিকদের যে রেকর্ড দলিল প্রদান করা হয় তাকে জমির খতিয়ান বা পর্চা বলা হয়।
কত প্রকার খতিয়ান আছে আমাদের দেশে । খতিয়ান ব্যাপারটা অনেক পুরাতন হলেও ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে চালুকৃত ভূমি পর্চা বা খতিয়ান এর গ্রহনযোগ্যতা শুরু হয়েছে। এর ধারবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ার পর নতুন জরিপ মোতাবেক নতুন খতিয়ান চালু করা হয়েছে।
| সি.এস খতিয়ান (CS Khatian) | ১৮৮৮ হতে ১৯৪০ |
| এস.এ খতিয়ান (SA Khatian) | ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ |
| আর.এস খতিয়ান (RS. Khatian) | Revitionel Survey |
| বি.এস খতিয়ান (B.S Khatian) | Bangladesh Survey |
আচ্ছা খতিয়ান সম্পর্কিত জ্ঞান তো নেয়া হলো। এখন আইসিটি বিষয়ক ব্লগে ভূমি বিষয়ক আলোচনা কেন করছি!! আমরা কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক। তাহলে ভূমি সেবা কেন ডিজিটালাইজেশন হবে না? চলুন এবার দেখি ঘরে বসে আমাদের নিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহার করে কিভাবে প্রয়োজনীয় খতিয়ানটি দেখতে এবং সার্টিফাইড কপিটি পেতে পারি-
১. eKhatian অ্যাপটি ডাউনলোড করতে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের Play Store-এ প্রবেশ করুন। সার্চে গিয়ে লিখুন eKhatian । অ্যাপটি ইন্সটল করে ওপেন করুন। সঠিকভাবে ইন্সটল সম্পন্ন হবার পর নিচের পেইজটি দেখতে পাবেন। আপনাদের জানিয়ে রাখি, আমাদের এ ব্লগে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে কিভাবে খতিয়ান বের করতে হয় তার বর্ণনা করা হয়েছে। তবে চাইলে আপনি কম্পিউটার থেকে খতিয়ান গ্রহন – এ লিঙ্ক থেকে খতিয়ান গ্রহন করতে পারেন।

২. খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ ও আবেদন ট্র্যাকিং ট্যাব দেখতে পাচ্ছেন। স্বভাবত খতিয়ান সিলেক্ট করুন। নিচের ছবি-২ এ আপনি দেখতে পাচ্ছেন খতিয়ান অনলাইন আবেদন নামে একটি ফর্ম আসছে।

বর্ণিত আবেদন ফর্ম অনুসারে নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন এবং সঠিক তথ্য প্রদান করুন-
বিভাগ : আপনার নিজ বিভাগ নির্বাচন করুন। যেমন- ঢাকা বা চট্টগ্রাম ইত্যাদি।
জেলা : উল্লিখিত বিভাগের কোন জেলাটি অন্তর্ভুক্ত তা এখানে নির্বাচন করুন। যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালি ইত্যাদি।
খাতিয়ানের ধরণ নির্বাচন করুন : কোন ধরনের খতিয়ান আপনি বের করতে চাইছেন তা নির্বাচন করুন। যেমন- সিএস, এসএ, বিএস ইত্যাদি।
উপজেলা : জেলায় অন্তর্গত কোন উপজেলাটি অন্তর্ভুক্ত তা এখানে নির্বাচন করুন।যেমন- নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা বা চাটখিল ইত্যাদি।
মৌজা : আপনার মৌজার নাম নির্বাচন করুন।
খতিয়ান নং : জমির যে খতিয়ানটি বের করতে চান তার নম্বরটি লিখুন।
দাগ নম্বর : যদি আপনার জমির দাগ নাম্বারটি থাকে তাহলে সেই নম্বরটি লিখুন।
মালিকানা নাম : মালিকানা নাম যদি থাকে তাহলে মালিকের নাম লিখুন।
পিতা/স্বামীর নাম : পিতা/স্বামীর থাকলে তা এখানে সেই নামটি লিখুন।
বি.দ্র. : খাতিয়ান নং/ দাগ নম্বর/ মালিকের নাম/ পিতা অথবা স্বামীর নাম এদের মধ্যে যে কোন একটা জানা থাকলেই চলবে।
ক্যাপচা : প্রদর্শিত ক্যাপসা কোডটি ফাঁকা জায়গায় হুবহু লিখুন (ভুল করলে পুনরায় দিতে হবে)।
উল্লিখিত ঘরগুলো পূরন করার পর পরবর্তী ধাপে যান।

আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো যদি সঠিক হয় থাকলে খতিয়ান নম্বর ও মালিকগণের নাম দেখতে পাবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

বি.দ্র. অফিস কাউন্টার থেকে গ্রহন করতে খরচ পরবে ৫০ টাকা আর যদি ডাকের মাধ্যমে ঘরে বসে পেতে চান তাহলে গুনতে হবে ৯০ টাকা। পরবর্তী ধাপ বাটন সিলেক্ট করুন।
এ পেইজে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম তারিখ ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে । যাচাই করুন বাটন সিলেক্ট করুন। আবেদনটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হলে আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে খতিয়ান সরবরাহের তথ্যসহ এমএসএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

সর্বশেষ ধাপে অনলাইন পেমেন্ট অপশন থাকবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং বা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা যাবে। নির্দিষ্ট ফি প্রদান করার পর একটি অনলাইন রিসিট কপি পাবেন।

রিসিট কপিটি গুরুত্বপূর্ণ তাই এটি সংরক্ষণ করুন।

যদি আপনি ডাকযোগে অপশনটি সিলেক্ট করে থাকেন, তাহলে নির্ধারিত তারিখে সার্টিফিকেট কপিটি পৌছে যাবে আপনার ঘরের দরজায়।
স্বত্ব ও techno29 এর স্টেটমেন্ট : এই ব্লগে ব্যবহৃত ছবিগুলো techno29.com এর ভিজিটরের বোঝার সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কাল্পনিক তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করছি উক্ত তথ্যগুলো কারো সাথে মিলবে না বা কারো অসুবিধার কারণ হবে না।
