WiFi 2.4GHz ও 5GHz এর মধ্যে পার্থক্য, কখন ব্যবহার করবেন

Share

টেকনোলজির সুবিধা উপভোগ করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। মোবাইল ইন্টারনেট হোক বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হোক এই দু’য়ের একটির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের সাথে যুক্ত থাকি। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেট যেমন সহজলভ্য হয়েছে তেমনি ব্যবহারে বেড়েছে সুযোগ সুবিধা। আমাদের বাসায় বা অফিসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলো পৌঁছে গেছে সারা দেশের প্রত্যন্ত সব এলাকায়। দুর্গম এলাকায় ক্যাবল না গেলেও রেডিও সিগনেল টেকনোলজির মাধ্যমে ইন্টারনেট এখন ওইখানেও।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি রাউটারের প্রয়োজন হয়। রাউটার হতে দুইভাবে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি। এক. ল্যান্ড ক্যাবল বা ফিজিক্যাল কানেকশান, দুই. ওয়ারলেস বা তারবিহীন সংযোগ। যেহেতু মোবাইলের ব্যবহার যত্রতত্র আর এই মোবাইল পোর্টেবল তাই আমরা ১০০ ভাগ ব্যবহারকারীই ওয়ারলেন্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও ক্যাবলের বিড়ম্বনা এড়াতে বাসা বা অফিসে আমরা ব্যবহার করি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক।

যদি AC (802.11a/n/ac) দেখায় তাহলে আপনার ডিভাইসটি 2.4GHz এবং 5GHz দুটো ব্র্যান্ডই সাপোর্ট করবে। আর যদি 802.11b/g/n দেখায় তাহলেই তো স্বাভাবিক ওই ডিভাইসটি 2.4GHz ।

টেকনোলজিতে প্রতিনিয়ত আসছে পরিবর্তন, সেই পরিবর্তন লেগেছে এই ওয়ারলেস টেকনোলজিতেও। বাজারে রয়েছে নামিদামি বিভিন্ন ধরনের রাউটার প্রতিষ্ঠান। ৭০০ – ৫০০০ টাকার মধ্যে রাউটার কিনতে পাওয়া যায়। তবে এই রাউটারগুলোর মধ্যে উন্নত ডেটা ট্রান্সমিশনের ব্যাপারগুলো ভালো মানের রাউটার উপর নির্ভর করে। আজকে আলোচনা করব রাউটারের Dual Brand টেকনোলজি নিয়ে। 2.4GHz এবং 5GHz সম্পর্কে যে তথ্যগুলো জানা জরুরী, আরো জানবো Dual Brand Router আসলে কি, কিভাবে কাজ করে, এর সুবিধা বা অসুবিধা কি?

Dual Brand (ডুয়ার ব্র্যান্ড) কি?

আপনি যে রাউটারের WiFi ব্যবহার করেন অর্থ্যাৎ আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে তারবিহীন যে WiFi নামটি দেখতে পান ওইটাই ব্র্যান্ড এবং ডুয়াল ব্র্যান্ড মানে হচ্ছে দুইটা WiFi । একটি রাউটারে দুইটা WiFi নাম (SSID) দেখাবে। যদি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার এই দুটো ব্র্যান্ড একসঙ্গে দেখায় তাহলে বুঝতে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারটি ডুয়াল ব্র্যান্ড সাপোর্ট করা ডিভাইস । কিন্তু বাজারের ৮০ ভাগ মোবাইল বা কম্পিউটারগুলো সিঙ্গেল ব্র্যান্ড। সাধারণত আমাদের আশেপাশে যে WiFi গুলো দেখি সেগুলো 2.4GHz ব্র্যান্ডের হয়ে থাকে এবং এই ব্র্যান্ড সকল মোবাইল এবং কম্পিউটারে সাপার্ট করে।

Dual Brand (ডুয়ার ব্র্যান্ড) যথাক্রমে 2.4GHz এবং 5GHz

2.4GHz এর স্টান্ডার্ড : IEEE 802.11b/g/n

5GHz এর স্টান্ডার্ড : IEEE 802.11a/n/ac

কিভাবে বুঝবেন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার কোন ব্র্যান্ড সাপোর্ট করে?

আপনার ডিভাইস কোন কোন ব্র্যান্ড সাপোর্ট করে সেটা বুঝতে হলে আপনার ডিভাইসটির স্পেসিফিকেশন দেখতে হবে। ইন্টারনেটে খুঁজলেই অনেক ওয়েবসাইট পাবেন যেভানে ডিভাইস স্পেসিফিকেশন থাকবে। সেই স্পেসিফিকেশনে Wireless Standard লক্ষ্য করলে যদি দেখতে পান কোথাও AC (802.11a/n/ac) দেখাচ্ছে তাহলে আপনার ডিভাইসটি 2.4GHz এবং 5GHz দুটো ব্র্যান্ডই সাপোর্ট করবে। আর যদি 802.11b/g/n দেখায় তাহলেই তো স্বাভাবিক ওই ডিভাইসটি 2.4GHz ।

2.4GHz এবং 5GHz এর সুবিধা ও অসুবিধা কি?

উভয়ের বেশ কিছু অসুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। যেমন-

2.4GHz : এ ব্র্যান্ড দিয়ে 300Mbps পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সি রেট ব্যবহার করা যায়। 2.4GHz এর ওয়ারলেন্স রেঞ্জ 5GHz এর অনেক বেশি। তবে খুব বেশি ব্যবহারকারী একসঙ্গে এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে না কারণ সর্বমোট 2.4GHz ফ্রিকোয়েন্সি ডাটা শেয়ার হওয়ার কারণে ক্রমশ ইন্টারনেট স্পিড ধীর হয়ে পড়ে।

হয়তো লক্ষ্য করেছেন, যখনই এক সঙ্গে ৫জনের অধিক ব্যক্তি 2.4GHz ব্র্যান্ড ব্যবহার করে অনলাইন জুম কনফান্স সফটওয়্যারে যুক্ত হোন প্রায় সময়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার প্রধান কারণ হচ্ছে ডেটা ট্রান্সমিশন। তবে আউটডোর কোন সভা বা মেলায় ইন্টারনেট হটস্পট হিসেবে 2.4GHz তুলনামূলকভাবে ভালো।

5GHz : এ ব্র্যান্ডের ফ্রিকোয়েন্সি বেশি প্রায় 867Mbps তবে বৃহৎ এলাকার জন্য নয়। তাই ডেটা ট্রান্সমিশন রেট অনেক। 5GHz বাসা বা ছোট পরিসর আয়তনে ব্যবহারের জন্য তুলনামূলকভাবে সেরা অর্থ্যাৎ এ ব্র্যান্ড অল্প পরিসরে বৃহৎ ডেটা ট্রান্সমিশন করতে পারে।

ডেটা ট্রান্সফার হার :

802.11ac : 80MHZ(433Mbps, 867Mbps), 802.11n: 40MHz(300Mbps, 270Mbps, 240Mbps, 180Mbps, 120Mbps, 90Mbps, 60Mbps, 30Mbps), 20MHz (144Mbps, 130Mbps, 115Mbps, 86Mbps, 57Mbps, 43Mbps, 28Mbps, 14Mbps)
802.11g : (54Mbps, 48Mbps, 36Mbps, 24Mbps, 18Mbps, 12Mbps, 11Mbps, 9Mbps, 6Mbps)
802.11b : (11Mbps,9Mbps, 6Mbps, 5.5Mbps, 2Mbps, 1Mbps)

অনেক রাউটার বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমাদের দেশে। অনেকগুলো অ্যান্টিনা না দেখে ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের রাউটার ব্যবহার করুন। টেকনোলজি খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হচ্ছে। ipv4 এর পাশাপাশি ipv6 সাপোর্ট করে এমন রাউটারগুলো ব্যবহার করুন।

Read more

Local News